নারীর দৃষ্টিতে · সৎ ও পালক
পালক বাবা
গায়রে মাহরামশর্ত: দুধ সম্পর্ক না থাকলে
লালন-পালন বা দত্তক নেওয়ায় কেউ বাবা হন না — কুরআন পালক সন্তানকে জন্মদাতা বাবার পরিচয়ে ডাকতে বলেছে। তাই বড় হওয়ার পর পালক বাবার সাথে পর্দা প্রযোজ্য। তবে শিশু অবস্থায় (দুই বছরের মধ্যে) তাঁর স্ত্রীর দুধ পান করে থাকলে — যে দুধ তাঁর কারণে এসেছে — তিনি দুধ বাবা, অর্থাৎ মাহরাম।
- পর্দা
- পর্দা ফরজ: শরীর ঢাকা শালীন পোশাক, আর দুজনেরই দৃষ্টি সংযত রাখা (২৪:৩০–৩১)। মুখ ঢাকা নিয়ে আলেমদের মতভেদ আছে; হানাফি মাযহাবের পরবর্তী আলেমগণ ফিতনার আশঙ্কায় পরপুরুষের সামনে মুখ ঢাকতে বলেছেন।
- হাত মেলানো
- হাত মেলানো বৈধ নয় (হানাফি মত); নবী ﷺ নারীদের বাইআত নিয়েছেন মুখের কথায়, হাত মিলিয়ে নয়।
- একান্তে থাকা
- একান্তে (খালওয়াত) থাকা বৈধ নয় — আত্মীয় হলেও।
- বিয়ে
- বৈধ — অন্য কোনো বাধা না থাকলে (যেমন তিনি অন্য কারো বিবাহে বা ইদ্দতে থাকলে নয়)।
- সফর
- নারীর সফরে মাহরাম হতে পারেন না।
পালক সন্তানকে স্নেহ ও যত্নে বড় করা অনেক সওয়াবের কাজ; শুধু মাহরামের সম্পর্ক বংশ, দুধপান বা বিবাহ ছাড়া তৈরি হয় না। শিশু অবস্থায় পর্দার প্রশ্ন নেই — বালেগ হওয়ার কাছাকাছি সময় থেকে বিধান প্রযোজ্য।
দলিল
সূরা আল-আহযাব ৩৩:৪–৫
وَمَا جَعَلَ أَدْعِيَاءَكُمْ أَبْنَاءَكُمْ … ادْعُوهُمْ لِآبَائِهِمْ هُوَ أَقْسَطُ عِنْدَ اللَّهِ
আর তিনি তোমাদের পালক ছেলেদের তোমাদের (প্রকৃত) ছেলে বানাননি… তাদের ডাকো তাদের (জন্মদাতা) বাবার নামে; এটাই আল্লাহর কাছে অধিক ন্যায়সঙ্গত।
সহীহ বুখারী ৪৭৮২; সহীহ মুসলিম ২৪২৫
مَا كُنَّا نَدْعُوهُ إِلَّا زَيْدَ ابْنَ مُحَمَّدٍ حَتَّى نَزَلَ الْقُرْآنُ ﴿ادْعُوهُمْ لِآبَائِهِمْ﴾
(ইবনে উমর রা. বলেন) আমরা যায়েদ ইবনে হারিসাকে ‘যায়েদ ইবনে মুহাম্মাদ’ ডাকতাম, যতক্ষণ না কুরআনের আয়াত নাযিল হলো: ‘তাদের ডাকো তাদের বাবার নামে।’
সহীহ বুখারী ৫১০৩; সহীহ মুসলিম ১৪৪৫
وَهُوَ عَمُّهَا مِنَ الرَّضَاعَةِ … فَأَمَرَنِي أَنْ آذَنَ لَهُ
আয়েশা (রা.)-এর দুধ চাচা আফলাহ (তাঁর দুধ বাবার ভাই) পর্দার বিধান নাযিলের পর দেখা করার অনুমতি চাইলেন; আয়েশা (রা.) অনুমতি দেননি, পরে নবী ﷺ তাঁকে অনুমতি দিতে বললেন।
দুধ মায়ের স্বামী — যার কারণে দুধ এসেছে — দুধ বাবা, আর তাঁর আত্মীয়রাও (যেমন তাঁর ভাই) মাহরাম; চার মাযহাবের মত।
পর্দা, হাত মেলানো ও সফরের সাধারণ দলিল দেখুনলুকান
সূরা আন-নূর ২৪:৩০–৩১
قُلْ لِلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ … وَقُلْ لِلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ
মুমিন পুরুষদের বলুন, তারা যেন দৃষ্টি সংযত রাখে… আর মুমিন নারীদের বলুন, তারা যেন দৃষ্টি সংযত রাখে…
সহীহ বুখারী ৫২৩৩; সহীহ মুসলিম ১৩৪১
لَا يَخْلُوَنَّ رَجُلٌ بِامْرَأَةٍ إِلَّا مَعَ ذِي مَحْرَمٍ
কোনো পুরুষ যেন কোনো নারীর সাথে একান্তে না থাকে — তার সাথে মাহরাম ছাড়া।
সহীহ বুখারী ৭২১৪; সহীহ মুসলিম ১৮৬৬
وَمَا مَسَّتْ يَدُ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ يَدَ امْرَأَةٍ إِلَّا امْرَأَةً يَمْلِكُهَا
(আয়েশা রা. বলেন) নবী ﷺ নারীদের বাইআত নিতেন মুখের কথায়; রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর হাত এমন কোনো নারীর হাত স্পর্শ করেনি, যিনি তাঁর স্ত্রী (বা অধিকারভুক্ত) নন।
সুনান নাসাঈ ৪১৮১; সুনান ইবনে মাজাহ ২৮৭৪
إِنِّي لَا أُصَافِحُ النِّسَاءَ
(বাইআতের সময় নবী ﷺ বললেন) আমি নারীদের সাথে হাত মেলাই না। (উমাইমা বিনতে রুকাইকা রা. থেকে বর্ণিত; আলবানি প্রমুখ সহীহ বলেছেন)
