AN-NIKAAH.COM

ইস্তিখারা ও বিয়ের মাসনুন দুয়া

বিয়ের প্রস্তাব এলে ইস্তিখারা কীভাবে করবেন, বর-কনেকে কোন দুয়ায় শুভেচ্ছা জানাবেন, আর বাসর রাতের আদব ও দুয়া — আরবি, বাংলা উচ্চারণ ও অর্থসহ, প্রতিটি হাদিসের সূত্র ও মানসহ।

ইস্তিখারা কী

ইস্তিখারা মানে আল্লাহর কাছে কল্যাণ চাওয়া — দুটি পথের মধ্যে কোনটি ভালো, তা যখন নিশ্চিত নন, তখন দুই রাকাত নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে নির্দিষ্ট দুয়ায় সাহায্য চাওয়া। জাবির (রা.) বলেন, নবীজি ﷺ সাহাবিদের সব কাজে ইস্তিখারা শেখাতেন, যেভাবে কুরআনের সূরা শেখাতেন (সহীহ বুখারী ১১৬২)।

বিয়ের মতো বড় সিদ্ধান্তে — প্রস্তাবটি গ্রহণ করবেন কি না — ইস্তিখারা মনকে আল্লাহর উপর ভরসায় স্থির করে। তবে এটি খোঁজখবর, পরিবারের পরামর্শ ও নিজের বিবেচনার বিকল্প নয়; বরং সবকিছুর সাথে আল্লাহর কাছে কল্যাণ চাওয়া।

ধাপে ধাপে

ইস্তিখারা নামাজের নিয়ম

  1. আগে খোঁজখবর ও পরামর্শ

    ইস্তিখারা খোঁজখবর ও পরামর্শের বিকল্প নয়। পাত্র বা পাত্রীর দ্বীন, চরিত্র, পরিবার ও বাস্তব অবস্থা সম্পর্কে ভালোভাবে জানুন, অভিভাবক ও অভিজ্ঞ বিশ্বস্ত মানুষের পরামর্শ নিন। কুরআনে বলা হয়েছে, “কাজকর্মে তাদের সাথে পরামর্শ করুন; তারপর সিদ্ধান্ত নিলে আল্লাহর উপর ভরসা করুন” (সূরা আলে ইমরান ৩:১৫৯)।

  2. ওযু করে দুই রাকাত নফল নামাজ

    নিষিদ্ধ সময় ছাড়া দিনে বা রাতে যেকোনো সময় ইস্তিখারার নিয়তে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ুন — হাদিসে আছে “ফরজ ছাড়া” দুই রাকাত। কোনো নির্দিষ্ট সূরা হাদিসে নেই; ইমাম নববী (রহ.) প্রথম রাকাতে সূরা কাফিরূন ও দ্বিতীয় রাকাতে সূরা ইখলাস পড়া পছন্দ করেছেন, তবে যেকোনো সূরা পড়লেই হয়।

  3. সালামের পর ইস্তিখারার দুয়া

    নামাজ শেষ করে মনোযোগ দিয়ে নিচের দুয়াটি পড়ুন। “হাযাল আমরা” (এই কাজটি) বলার জায়গায় বিষয়টি নির্দিষ্ট করুন — যেমন “অমুকের সাথে আমার বিয়ে”। আরবি পড়তে না পারলে দেখে দেখে পড়ুন; অর্থ বুঝে পড়লে মন আরও উপস্থিত থাকে।

  4. আল্লাহর উপর ভরসা করে এগিয়ে যান

    এরপর স্বাভাবিকভাবে খোঁজখবর ও আলোচনা চালিয়ে যান। দুয়াতেই আপনি চেয়েছেন — কল্যাণকর হলে আল্লাহ যেন সহজ করে দেন, আর অকল্যাণকর হলে যেন সরিয়ে দেন। তাই যে পথ সহজ হয় এবং যাতে মন স্থির হয়, সেটিকেই আল্লাহর ফয়সালা মনে করে সন্তুষ্ট থাকুন। স্বপ্ন দেখা জরুরি নয় — হাদিসে স্বপ্নের কোনো কথা নেই।

  5. প্রয়োজনে আবার পড়ুন

    মন স্থির না হলে ইস্তিখারা আবার পড়া যায় — অনেক আলেম অনুমতি দিয়েছেন। তবে “সাতবার পড়তে হবে” মর্মে যে বর্ণনা প্রচলিত, হাফেয ইবনে হাজার (রহ.) সহ মুহাদ্দিসগণ তার সনদকে দুর্বল বলেছেন।

কখন পড়া যাবে না

ইস্তিখারার দুই রাকাত নফল নামাজ, তাই নফল নামাজের নিষিদ্ধ সময়ে তা পড়বেন না:

  • সূর্যোদয়ের সময় — সূর্য উঠতে শুরু করা থেকে কিছুটা উপরে ওঠা পর্যন্ত। (সহীহ মুসলিম ৮৩১)
  • ঠিক দুপুরে — সূর্য মাথার উপর থেকে পশ্চিমে হেলে পড়া পর্যন্ত। (সহীহ মুসলিম ৮৩১)
  • সূর্যাস্তের সময় — সূর্য অস্ত যাওয়ার দিকে হেলে পড়া থেকে পুরোপুরি ডুবে যাওয়া পর্যন্ত। (সহীহ মুসলিম ৮৩১)
  • ফজরের নামাজের পর সূর্যোদয় পর্যন্ত, এবং আসরের নামাজের পর সূর্যাস্ত পর্যন্ত — এ সময়ে নফল নামাজ পড়া হয় না। (সহীহ মুসলিম ৮২৭)

এর বাইরে দিনে-রাতে যেকোনো সময় পড়া যায় — নির্দিষ্ট কোনো সময় শর্ত নয়; অনেকে রাতে ঘুমানোর আগে বা তাহাজ্জুদের সময় পড়তে পছন্দ করেন।

ইস্তিখারার দুয়া

কখন: দুই রাকাত নফল নামাজের সালাম ফেরানোর পর। “হাযাল আমরা” (এই কাজটি) বলার সময় মনে মনে বিষয়টি নির্দিষ্ট করুন — যেমন “অমুকের সাথে আমার এই বিয়ের প্রস্তাব” — অথবা এর জায়গায় বিষয়টির নাম বলুন; হাদিসে আছে, “সে তার প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করবে।”

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْتَخِيرُكَ بِعِلْمِكَ، وَأَسْتَقْدِرُكَ بِقُدْرَتِكَ، وَأَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ الْعَظِيمِ، فَإِنَّكَ تَقْدِرُ وَلاَ أَقْدِرُ، وَتَعْلَمُ وَلاَ أَعْلَمُ، وَأَنْتَ عَلاَّمُ الْغُيُوبِ. اللَّهُمَّ إِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الأَمْرَ خَيْرٌ لِي فِي دِينِي وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي (أَوْ قَالَ: عَاجِلِ أَمْرِي وَآجِلِهِ) فَاقْدُرْهُ لِي وَيَسِّرْهُ لِي ثُمَّ بَارِكْ لِي فِيهِ، وَإِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الأَمْرَ شَرٌّ لِي فِي دِينِي وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي (أَوْ قَالَ: فِي عَاجِلِ أَمْرِي وَآجِلِهِ) فَاصْرِفْهُ عَنِّي وَاصْرِفْنِي عَنْهُ، وَاقْدُرْ لِي الْخَيْرَ حَيْثُ كَانَ، ثُمَّ أَرْضِنِي بِهِ

বাংলা উচ্চারণ

আল্লাহুম্মা ইন্নী আসতাখীরুকা বি‘ইলমিকা, ওয়া আসতাক্বদিরুকা বিক্বুদরাতিকা, ওয়া আসআলুকা মিন ফাদ্বলিকাল ‘আযীম, ফাইন্নাকা তাক্বদিরু ওয়া লা আক্বদিরু, ওয়া তা‘লামু ওয়া লা আ‘লামু, ওয়া আনতা ‘আল্লামুল গুয়ূব। আল্লাহুম্মা ইন কুনতা তা‘লামু আন্না হাযাল আমরা খাইরুল লী ফী দীনী ওয়া মা‘আশী ওয়া ‘আক্বিবাতি আমরী (আও ক্বালা: ‘আজিলি আমরী ওয়া আজিলিহী) ফাক্বদুরহু লী, ওয়া ইয়াসসিরহু লী, ছুম্মা বারিক লী ফীহি; ওয়া ইন কুনতা তা‘লামু আন্না হাযাল আমরা শাররুল লী ফী দীনী ওয়া মা‘আশী ওয়া ‘আক্বিবাতি আমরী (আও ক্বালা: ফী ‘আজিলি আমরী ওয়া আজিলিহী) ফাসরিফহু ‘আন্নী, ওয়াসরিফনী ‘আনহু, ওয়াক্বদুর লিয়াল খাইরা হাইছু কানা, ছুম্মা আরদ্বিনী বিহী।

অর্থ

হে আল্লাহ! আমি আপনার জ্ঞানের মাধ্যমে আপনার কাছে কল্যাণ চাইছি, আপনার কুদরতের মাধ্যমে আপনার কাছে সামর্থ্য চাইছি এবং আপনার মহান অনুগ্রহ প্রার্থনা করছি। কেননা আপনি ক্ষমতা রাখেন, আমি রাখি না; আপনি জানেন, আমি জানি না; আর আপনিই অদৃশ্যের সব বিষয়ে সর্বজ্ঞ। হে আল্লাহ! আপনি যদি জানেন যে এই কাজটি আমার দ্বীন, আমার জীবন-জীবিকা ও আমার কাজের পরিণামে (অথবা তিনি বলেছেন: আমার এখনকার ও পরের বিষয়ে) আমার জন্য কল্যাণকর, তবে তা আমার জন্য নির্ধারণ করে দিন, সহজ করে দিন, তারপর তাতে আমার জন্য বরকত দিন। আর যদি জানেন যে এই কাজটি আমার দ্বীন, জীবন-জীবিকা ও কাজের পরিণামে (অথবা: আমার এখনকার ও পরের বিষয়ে) আমার জন্য অকল্যাণকর, তবে তা আমার থেকে সরিয়ে দিন এবং আমাকেও তা থেকে ফিরিয়ে রাখুন; আর যেখানেই কল্যাণ থাকুক, আমার জন্য তা নির্ধারণ করে দিন, তারপর তাতে আমাকে সন্তুষ্ট রাখুন।

বন্ধনীর অংশ দুটি বর্ণনাকারীর সংশয়: নবীজি ﷺ “দ্বীন, জীবিকা ও পরিণাম” বলেছিলেন, নাকি “এখনকার ও পরের বিষয়” — বর্ণনাকারী নিশ্চিত ছিলেন না। অনেকে দুটোই পড়েন; “আও ক্বালা” (অথবা তিনি বলেছেন) কথাটি দুয়ার অংশ নয়, তাই তা পড়বেন না।

সূত্র: সহীহ বুখারী ১১৬২, ৬৩৮২, ৭৩৯০ — জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে। এখানের শব্দগুলো ১১৬২ নম্বরের বর্ণনা থেকে নেওয়া (sunnah.com-এ এর নম্বর ১১৬৬)। মান: সহীহ

WhatsAppফেসবুক
আকদের পর

বিয়ের শুভেচ্ছার দুয়া

“হ্যাপি ম্যারিড লাইফ”-এর পাশাপাশি বা তার বদলে নবীজি ﷺ-এর শেখানো দুয়ায় নবদম্পতিকে শুভেচ্ছা জানান — এটি তাঁদের জন্য সবচেয়ে সুন্দর উপহার।

বর-কনেকে বিয়ের শুভেচ্ছা

কখন: কারও বিয়ে হলে তাঁকে অভিনন্দন জানাতে — নবীজি ﷺ বিয়ে করা মানুষকে এভাবেই শুভেচ্ছা জানাতেন।

بَارَكَ اللَّهُ لَكَ، وَبَارَكَ عَلَيْكَ، وَجَمَعَ بَيْنَكُمَا فِي خَيْرٍ

বাংলা উচ্চারণ

বারাকাল্লাহু লাকা, ওয়া বারাকা ‘আলাইকা, ওয়া জামা‘আ বাইনাকুমা ফী খাইর।

অর্থ

আল্লাহ তোমার জন্য বরকত দিন, তোমার উপর বরকত নাযিল করুন এবং তোমাদের দুজনকে কল্যাণের মধ্যে একত্র রাখুন।

সূত্র: সুনান আবু দাউদ ২১৩০, জামে তিরমিযী ১০৯১ — আবু হুরায়রা (রা.) থেকে। মান: সহীহ — ইমাম তিরমিযী “হাসান সহীহ” বলেছেন; শাইখ আলবানীও সহীহ বলেছেন।

WhatsAppফেসবুক

পরিবারকে শুভেচ্ছা

কখন: বিয়ের খবরে পরিবার বা একাধিক জনকে শুভেচ্ছা জানাতে। সাহাবি আকীল ইবনে আবি তালিব (রা.)-কে বিয়ের পর জাহেলি যুগের রীতিতে “বির-রিফা’ই ওয়াল বানীন” (মিলেমিশে থাকো, ছেলে সন্তান হোক) বলা হলে তিনি তা বলতে নিষেধ করে নবীজি ﷺ-এর এই দুয়াটি বলতে বলেন।

بَارَكَ اللَّهُ فِيكُمْ، وَبَارَكَ لَكُمْ

বাংলা উচ্চারণ

বারাকাল্লাহু ফীকুম, ওয়া বারাকা লাকুম।

অর্থ

আল্লাহ তোমাদের মধ্যে বরকত দিন এবং তোমাদের জন্য বরকত দিন।

সূত্র: সুনান নাসায়ী ৩৩৭১ — আকীল ইবনে আবি তালিব (রা.) থেকে; কাছাকাছি শব্দে সুনান ইবনে মাজাহ ১৯০৬। মান: শাইখ আলবানী সহীহ বলেছেন; কোনো কোনো মুহাদ্দিস সনদের কারণে দুর্বল বলেছেন।

WhatsAppফেসবুক
নতুন জীবনের শুরু

বাসর রাতের আদব ও দুয়া

বাসর রাত নিয়ে অনেক কথা প্রচলিত — এখানে শুধু সেগুলোই রাখা হয়েছে, যার নির্ভরযোগ্য সূত্র আছে; আর যেখানে কোনো আমল নবীজি ﷺ-এর হাদিস নয় বা বর্ণনার মান নিয়ে মতভেদ আছে, সেখানে তা স্পষ্ট করে বলা হয়েছে।

  1. নরম আচরণ ও সুন্দর কথা

    নতুন জীবনের শুরুটা হোক সহজ ও আন্তরিক। একে অপরকে সালাম দিন, শান্তভাবে কথা বলুন, পরিচয়টা গাঢ় হতে সময় দিন। আল্লাহ স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া রেখেছেন (সূরা রূম ৩০:২১) এবং বলেছেন, “তাদের সাথে সদ্ভাবে জীবনযাপন করো” (সূরা নিসা ৪:১৯)।

    নবীজি ﷺ বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে সে-ই উত্তম, যে তার পরিবারের কাছে উত্তম” — জামে তিরমিযী ৩৮৯৫ (সহীহ)।

  2. কিছু খেতে বা পান করতে দেওয়া

    নববধূ বা বরকে একটু পানি, দুধ বা মিষ্টি জাতীয় কিছু দিন — অস্বস্তি কাটাতে ছোট্ট আপ্যায়ন অনেক কাজে দেয়।

    মুসনাদে আহমাদে আসমা বিনতে ইয়াযিদ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি ﷺ নববধূ আয়েশা (রা.)-কে দুধ পান করতে দিয়েছিলেন। এর সনদে শাহর ইবনে হাওশাব আছেন, যাঁকে অনেক মুহাদ্দিস দুর্বল বলেছেন — তাই বর্ণনাটির মান নিয়ে মতভেদ আছে।

  3. কপালে হাত রেখে দুয়া

    স্বামী স্ত্রীর কপালের উপরের অংশে আলতো করে হাত রেখে বরকতের দুয়া করবেন — দুয়াটি নিচে দেওয়া আছে।

    দুয়াটি দেখুন
  4. চাইলে একসাথে দুই রাকাত নামাজ

    অনেকে নতুন জীবনের শুরুতে একসাথে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে কল্যাণ চান।

    এটি নবীজি ﷺ-এর কোনো হাদিস নয় — ইবনে মাসউদ, আবু যর ও হুযাইফা (রা.)-সহ কয়েকজন সাহাবির উপদেশ হিসেবে মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা ও মুসান্নাফ আবদুর রাযযাকে বর্ণিত। এর সনদের মান নিয়ে মুহাদ্দিসদের মতভেদ আছে।

  5. তাড়াহুড়া নয়, পারস্পরিক সম্মতি ও বিশ্রাম

    বিয়ের দিনের ধকলে দুজনেই ক্লান্ত থাকতে পারেন। কোনো চাপ বা তাড়াহুড়া নয় — একে অপরের অনুভূতি, সম্মতি, স্বস্তি ও বিশ্রামকে গুরুত্ব দিন। সম্পর্ক গড়ে ওঠে ধৈর্য আর সম্মানে।

  6. একান্ত মুহূর্তের আগে দুয়া

    স্বামী-স্ত্রী একান্তে মিলিত হওয়ার আগে “বিসমিল্লাহ” বলে দুয়াটি পড়বেন — নিচে দেওয়া আছে।

    দুয়াটি দেখুন
  7. দাম্পত্যের গোপনীয়তা রক্ষা

    স্বামী-স্ত্রীর একান্ত বিষয় বন্ধুবান্ধব বা অন্য কারও কাছে বলবেন না — এটি পরস্পরের আমানত।

    নবীজি ﷺ এমন ব্যক্তিকে কিয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে নিকৃষ্টতম মর্যাদার বলেছেন, যে স্ত্রীর সাথে একান্ত হওয়ার পর তার গোপন কথা প্রকাশ করে — সহীহ মুসলিম ১৪৩৭। (কোনো কোনো মুহাদ্দিস এর এক বর্ণনাকারীকে দুর্বল বলেছেন; তবে দাম্পত্যের গোপনীয়তা রক্ষা করা যে কর্তব্য, তা নিয়ে আলেমদের মধ্যে দ্বিমত নেই।)

স্ত্রীর কপালে হাত রেখে দুয়া

কখন: বিয়ের পর প্রথম সাক্ষাতে স্বামী স্ত্রীর কপালের উপরের অংশে আলতো করে হাত রেখে এই দুয়া পড়বেন এবং বরকতের দুয়া করবেন। স্ত্রীও নিজের ভাষায় স্বামী ও নতুন সংসারের কল্যাণের জন্য দুয়া করতে পারেন।

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَيْرَهَا وَخَيْرَ مَا جَبَلْتَهَا عَلَيْهِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّهَا وَمِنْ شَرِّ مَا جَبَلْتَهَا عَلَيْهِ

বাংলা উচ্চারণ

আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা খাইরাহা ওয়া খাইরা মা জাবালতাহা ‘আলাইহি, ওয়া আ‘ঊযু বিকা মিন শাররিহা ওয়া মিন শাররি মা জাবালতাহা ‘আলাইহি।

অর্থ

হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে তার কল্যাণ এবং যে স্বভাব-প্রকৃতির উপর আপনি তাকে সৃষ্টি করেছেন তার কল্যাণ চাই; আর তার অকল্যাণ এবং যে স্বভাবের উপর আপনি তাকে সৃষ্টি করেছেন তার অকল্যাণ থেকে আপনার আশ্রয় চাই।

সূত্র: সুনান আবু দাউদ ২১৬০, সুনান ইবনে মাজাহ ১৯১৮ — আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে (আমর ইবনে শুআইবের সূত্রে)। কপালে হাত রাখার কথা ইবনে মাজাহর বর্ণনায় ও আবু দাউদের একটি বর্ণনায় আছে। মান: হাসান — শাইখ আলবানী ও শুআইব আরনাঊত।

WhatsAppফেসবুক

স্বামী-স্ত্রীর একান্ত মুহূর্তের আগে

কখন: স্বামী-স্ত্রী একান্তে মিলিত হওয়ার আগে। হাদিসে আছে, এই দুয়া পড়ার পর তাঁদের সন্তান নির্ধারিত হলে শয়তান তার ক্ষতি করতে পারবে না।

بِسْمِ اللَّهِ، اللَّهُمَّ جَنِّبْنَا الشَّيْطَانَ، وَجَنِّبِ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتَنَا

বাংলা উচ্চারণ

বিসমিল্লাহ, আল্লাহুম্মা জান্নিবনাশ শাইত্বানা, ওয়া জান্নিবিশ শাইত্বানা মা রাযাক্বতানা।

অর্থ

আল্লাহর নামে। হে আল্লাহ! আমাদের শয়তান থেকে দূরে রাখুন, আর আপনি আমাদের যা (সন্তান) দান করবেন, তা থেকেও শয়তানকে দূরে রাখুন।

সূত্র: সহীহ বুখারী ১৪১, ৫১৬৫; সহীহ মুসলিম ১৪৩৪ — ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে। মান: সহীহ

WhatsAppফেসবুক

সাধারণ জিজ্ঞাসা

ইস্তিখারা নামাজ কীভাবে পড়তে হয়?

ওযু করে নিষিদ্ধ সময় ছাড়া যেকোনো সময় ইস্তিখারার নিয়তে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ুন; যেকোনো সূরা পড়া যায়। সালাম ফেরানোর পর ইস্তিখারার দুয়া (আল্লাহুম্মা ইন্নী আসতাখীরুকা বি‘ইলমিকা…) পড়ুন এবং “হাযাল আমরা” বলার জায়গায় বিষয়টি — যেমন নির্দিষ্ট বিয়ের প্রস্তাব — মনে মনে নির্দিষ্ট করুন বা নাম বলুন। পদ্ধতিটি জাবির (রা.)-এর হাদিসে এসেছে — সহীহ বুখারী ১১৬২।

ইস্তিখারার পর স্বপ্ন না দেখলে কী করব?

স্বপ্ন দেখা জরুরি নয় — ইস্তিখারার হাদিসে স্বপ্নের কোনো কথা নেই। দুয়ায় আপনি চেয়েছেন, কাজটি কল্যাণকর হলে আল্লাহ যেন সহজ করে দেন, আর অকল্যাণকর হলে সরিয়ে দেন। তাই খোঁজখবর ও পরামর্শ চালিয়ে যান, আল্লাহর উপর ভরসা করে এগোন; যে পথ সহজ হয় ও যাতে মন স্থির হয়, সেটিকেই কল্যাণ মনে করুন। মন স্থির না হলে আবার ইস্তিখারা করতে পারেন।

অন্য কেউ কি আমার জন্য ইস্তিখারা করতে পারে?

হাদিসে যিনি কাজটির ইচ্ছা করেন, তাঁকেই ইস্তিখারা করতে বলা হয়েছে — তাই বিয়ের সিদ্ধান্তে পাত্র-পাত্রীর নিজে ইস্তিখারা করাই উত্তম। কোনো কোনো আলেম অন্যের পক্ষ থেকে (যেমন বাবা-মা সন্তানের জন্য) ইস্তিখারা করাকে বৈধ বলেছেন, অনেকে বলেননি। তবে বাবা-মা সন্তানের কল্যাণের জন্য যেকোনো সময় দুয়া করতে পারেন — এতে কোনো মতভেদ নেই।

ইস্তিখারা কি বারবার করা যায়? নামাজ পড়তে না পারলে?

হ্যাঁ, মন স্থির না হলে আবার করা যায়; তবে “সাতবার পড়তে হবে” মর্মে প্রচলিত বর্ণনাটি দুর্বল। আর কোনো কারণে নামাজ পড়া সম্ভব না হলে (যেমন নারীদের মাসিকের দিনগুলোতে) ইমাম নববী (রহ.)-সহ অনেক আলেমের মতে শুধু দুয়াটি পড়েও ইস্তিখারা করা যায়।

বাসর রাতের সুন্নাহ কী কী?

নববধূর সাথে নরম ও সুন্দর আচরণ; স্বামীর স্ত্রীর কপালে হাত রেখে বরকতের দুয়া (সুনান আবু দাউদ ২১৬০, হাসান); একান্তে মিলিত হওয়ার আগে “বিসমিল্লাহ, আল্লাহুম্মা জান্নিবনাশ শাইত্বানা…” দুয়া (সহীহ বুখারী ১৪১, সহীহ মুসলিম ১৪৩৪); এবং দাম্পত্যের গোপনীয়তা রক্ষা। একসাথে দুই রাকাত নামাজ পড়া কয়েকজন সাহাবির উপদেশ হিসেবে বর্ণিত — এটি নবীজি ﷺ-এর হাদিস নয়। এর বাইরে বাসর রাতের জন্য প্রচলিত লম্বা “বিশেষ দুয়া” বা নির্দিষ্ট নিয়মগুলোর অধিকাংশের নির্ভরযোগ্য সূত্র পাওয়া যায় না।

বিয়ের শুভেচ্ছায় কোন দুয়া পড়তে হয়?

নবীজি ﷺ বিয়ে করা মানুষকে বলতেন: “বারাকাল্লাহু লাকা, ওয়া বারাকা ‘আলাইকা, ওয়া জামা‘আ বাইনাকুমা ফী খাইর” — আল্লাহ তোমার জন্য বরকত দিন, তোমার উপর বরকত নাযিল করুন এবং তোমাদের দুজনকে কল্যাণের মধ্যে একত্র রাখুন (সুনান আবু দাউদ ২১৩০, জামে তিরমিযী ১০৯১, সহীহ)। পরিবারকে বা একাধিক জনকে বলা যায় “বারাকাল্লাহু ফীকুম, ওয়া বারাকা লাকুম” (সুনান নাসায়ী ৩৩৭১)।

জরুরি কথা

এই পাতাটি একটি শিক্ষামূলক সহায়িকা। প্রতিটি আরবি দুয়া উল্লেখিত হাদিসগ্রন্থের মূল পাঠ থেকে মিলিয়ে নেওয়া; বাংলা উচ্চারণ শুধু সহায়তার জন্য — বাংলা হরফে আরবির সব উচ্চারণ নিখুঁতভাবে লেখা যায় না, তাই সম্ভব হলে কোনো আলেম বা ক্বারীর কাছ থেকে শুনে শুদ্ধ করে নিন। নিজের নির্দিষ্ট পরিস্থিতির জন্য নির্ভরযোগ্য আলেমের পরামর্শ নিন।

হাদিসের নম্বর আন্তর্জাতিক নম্বর অনুযায়ী (সহীহ বুখারী — ফাতহুল বারী, সহীহ মুসলিম — মুহাম্মাদ ফুয়াদ আবদুল বাকী); ইসলামিক ফাউন্ডেশন বা তাওহীদ পাবলিকেশন্সের বাংলা সংস্করণে নম্বর ভিন্ন হতে পারে। হাদিসের মান (সহীহ/হাসান) উল্লেখিত মুহাদ্দিসদের মত অনুযায়ী।

বিয়ের প্রস্তুতিতে আরও

উপযুক্ত জীবনসঙ্গী খুঁজছেন?

পরিবারের মাধ্যমে, নিরাপদে ও সম্মানের সাথে পাত্র-পাত্রী খুঁজুন।

আরও ফ্রি টুলস ও গাইড

বিয়ের প্রস্তুতিতে কাজে লাগবে — সম্পূর্ণ বিনামূল্যে