AN-NIKAAH.COM

মাহরাম ও পর্দার সম্পর্ক চেকার (দলিলসহ)

আপনার যেকোনো আত্মীয় বা শ্বশুরবাড়ির সদস্য মাহরাম নাকি গায়রে মাহরাম — তা কুরআন ও সুন্নাহর দলিলসহ এক ক্লিকেই যাচাই করুন।

দেখছেন: নারীর দৃষ্টিতে

  • স্থায়ী মাহরাম
  • মাহরাম নয়, সাময়িকভাবে বিয়ে নিষিদ্ধ
  • গায়রে মাহরাম

রক্তের সম্পর্ক

বৈবাহিক ও শ্বশুরবাড়ি

দুধ সম্পর্ক

সৎ ও পালক

নারীর দৃষ্টিতে · দুধ সম্পর্ক

দুধ নানা ও দুধ দাদা

স্থায়ী মাহরাম

শর্ত: শিশু অবস্থায় (হানাফি মতে দুই বছর বয়সের মধ্যে) দুধ পান করলে

দুধ মা বা দুধ বাবার বাবা — এবং তাঁদের ঊর্ধ্বতন — চিরস্থায়ী মাহরাম।

পর্দা
পরপুরুষের মতো পূর্ণ পর্দা জরুরি নয়। নারী মাহরামের সামনে মাথা, চুল, মুখ, গলা, হাত ও পায়ের নিচের অংশ খোলা রেখে ঘরোয়া পোশাকে আসতে পারেন; পিঠ, পেট ও উরু ঢাকা থাকবে (হানাফি মত)। কামভাব বা ফিতনার আশঙ্কা থাকলে মাহরামের সামনেও সংযত থাকতে হয়।
হাত মেলানো
সালাম, হাত মেলানো ও স্নেহের স্পর্শ বৈধ — যদি কামভাবের আশঙ্কা না থাকে।
একান্তে থাকা
একসাথে একান্তে থাকা বৈধ।
বিয়ে
চিরকালের জন্য হারাম।
সফর
এই সম্পর্কের পুরুষ নারীর সফরে মাহরাম হিসেবে সঙ্গী হতে পারেন (প্রাপ্তবয়স্ক, বিবেকবান ও বিশ্বস্ত হলে)।

দলিল

  • সহীহ বুখারী ২৬৪৫; সহীহ মুসলিম ১৪৪৭

    يَحْرُمُ مِنَ الرَّضَاعِ مَا يَحْرُمُ مِنَ النَّسَبِ

    বংশের কারণে যা হারাম, দুধপানের কারণেও তা হারাম। (হামযা রা.-এর মেয়ে সম্পর্কে নবী ﷺ বলেন, সে আমার দুধভাইয়ের মেয়ে — ইবনে আব্বাস রা.)

পর্দা, হাত মেলানো ও সফরের সাধারণ দলিল দেখুন
  • সূরা আন-নূর ২৪:৩১

    وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا لِبُعُولَتِهِنَّ أَوْ آبَائِهِنَّ أَوْ آبَاءِ بُعُولَتِهِنَّ أَوْ أَبْنَائِهِنَّ أَوْ أَبْنَاءِ بُعُولَتِهِنَّ أَوْ إِخْوَانِهِنَّ أَوْ بَنِي إِخْوَانِهِنَّ أَوْ بَنِي أَخَوَاتِهِنَّ

    তারা যেন নিজেদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে — তবে নিজ স্বামী, বাবা, শ্বশুর, ছেলে, স্বামীর ছেলে, ভাই, ভাতিজা ও ভাগ্নের সামনে (করতে পারে)…

    চাচা-মামার নাম এখানে আলাদা করে নেই, তবে ৪:২৩ অনুযায়ী তাঁরা ভাতিজি-ভাগ্নির মাহরাম — এ বিষয়ে ঐকমত্য। দেবর, ভাসুর, দুলাভাই, খালু, ফুফা বা কাজিন এই তালিকায় নেই।

  • সহীহ বুখারী ১৮৬২; সহীহ মুসলিম ১৩৪১

    لَا تُسَافِرِ الْمَرْأَةُ إِلَّا مَعَ ذِي مَحْرَمٍ

    নারী যেন মাহরাম ছাড়া সফর না করে।

WhatsAppফেসবুক

মাহরাম কারা — আর সম্পর্কটি কী বদলায়

মাহরাম হলেন সেই আত্মীয়, যার সাথে বিয়ে চিরকালের জন্য হারাম — বংশ, বিবাহ বা দুধপানের কারণে (সূরা আন-নিসা ৪:২২–২৩)। এর বাইরের সবাই গায়রে মাহরাম, আত্মীয়তা যত ঘনিষ্ঠই হোক (৪:২৪)। কাউকে শুধু কিছু সময়ের জন্য বিয়ে করা নিষেধ হলে — যেমন শ্যালিকা বা খালু — তিনি মাহরাম হয়ে যান না।

  • মাহরামের সাথে: পরপুরুষের মতো পূর্ণ পর্দা লাগে না, একসাথে একান্তে থাকা বৈধ, আর এমন পুরুষ নারীর সফরে মাহরাম হতে পারেন (সহীহ বুখারী ১৮৬২, সহীহ মুসলিম ১৩৪১)। তবে শালীনতা বদলায় না — পিঠ, পেট ও উরু ঢাকা থাকবে, আর ফিতনার আশঙ্কা থাকলে মাহরামের সামনেও সংযম জরুরি।
  • গায়রে মাহরামের সাথে: পর্দা ফরজ, দুজনেরই দৃষ্টি সংযত রাখার নির্দেশ (২৪:৩০–৩১)। প্রয়োজনে শালীনভাবে কথা বলা বৈধ, কিন্তু একান্তে থাকা বৈধ নয় (সহীহ বুখারী ৫২৩৩, সহীহ মুসলিম ১৩৪১)।
  • হাত মেলানো (মুসাফাহা): হানাফি মাযহাবে গায়রে মাহরামের সাথে বৈধ নয়। নবী ﷺ নারীদের বাইআত নিয়েছেন মুখের কথায় (সহীহ বুখারী ৭২১৪, সহীহ মুসলিম ১৮৬৬) এবং বলেছেন, “আমি নারীদের সাথে হাত মেলাই না” (সুনান নাসাঈ ৪১৮১, সুনান ইবনে মাজাহ ২৮৭৪)। হানাফি ফকিহগণ শুধু এমন বয়োবৃদ্ধের ক্ষেত্রে ছাড় দিয়েছেন, যেখানে আকর্ষণের কোনো আশঙ্কা নেই।
  • দুধ সম্পর্কের শর্ত: “বংশের কারণে যা হারাম, দুধপানের কারণেও তা হারাম” (সহীহ বুখারী ২৬৪৫, সহীহ মুসলিম ১৪৪৭) — তাই দুধ সম্পর্ক বংশের সম্পর্কগুলোর প্রতিফলন। হানাফি মাযহাবে দুই বছর বয়সের মধ্যে (ফতোয়া এ মতের উপর) অল্প দুধপানেও সম্পর্ক হয়; শাফেয়ি ও হাম্বলি মাযহাবে পাঁচবার আলাদা দুধপান শর্ত (সহীহ মুসলিম ১৪৫২) — এটি মতভেদপূর্ণ মাসআলা। সম্পর্কটি শুধু দুধপানকারী শিশু ও তার সন্তানদের সাথে হয়। প্রমাণের জন্য নির্ভরযোগ্য সাক্ষ্য লাগে; সন্দেহ থাকলে বিয়ের আগে আলেমের পরামর্শ নিন।
  • পালক সন্তান: দত্তক নেওয়ায় মাহরামের সম্পর্ক হয় না (সূরা আল-আহযাব ৩৩:৪–৫) — শিশু বয়সে দুধ পান করানো হলে দুধ সম্পর্কে হয়।
  • একাধিক সূত্রে আত্মীয়: একই মানুষ দুই দিক থেকে আত্মীয় হলে (যেমন চাচি আবার খালাও), যে সম্পর্ক মাহরাম বানায় সেটিই ধর্তব্য।

“পুরুষের ১৪ জন মাহরাম” জাতীয় প্রচলিত সংখ্যাগুলো সরলীকরণ — দুধ সম্পর্ক বংশের সব সম্পর্কের প্রতিফলন বলে প্রকৃত তালিকা এর চেয়ে বড়। তাই এখানে সংখ্যা নয়, সম্পর্ক ও নিয়ম দেখানো হয়েছে।

এক নজরে মাহরাম চার্ট

যাদের সাথে বিয়ে চিরকাল হারাম ও পূর্ণ পর্দা জরুরি নয় (হানাফি মাযহাব অনুযায়ী)। * চিহ্নিত সম্পর্ক মাহরাম হয় কেবল সংশ্লিষ্ট বিয়েতে দাম্পত্য মিলন হলে — যেমন সৎ মেয়ে, তাঁর মায়ের সাথে মিলনের পর।

পুরুষের মাহরাম

বংশগত

মা · দাদি (বাবার মা) · নানি (মায়ের মা) · মেয়ে · নাতনি (ছেলের মেয়ে) · নাতনি (মেয়ের মেয়ে) · আপন বোন · ফুফু (বাবার বোন) · খালা (মায়ের বোন) · দাদা ও নানার বোন · দাদি ও নানির বোন · ভাতিজি (ভাইয়ের মেয়ে) · ভাগ্নি (বোনের মেয়ে) · ভাতিজি ও ভাগ্নির মেয়ে · সৎ বোন (বাবা এক, মা ভিন্ন) · সৎ বোন (মা এক, বাবা ভিন্ন)

দুধ সম্পর্কীয়

বংশের কারণে যারা মাহরাম, শিশু বয়সের দুধপানের কারণেও তারা মাহরাম —

দুধ মা · দুধ বোন · দুধ খালা (দুধ মায়ের বোন) · দুধ ফুফু (দুধ বাবার বোন) · দুধ নানি ও দুধ দাদি · দুধ মেয়ে · দুধ ভাই-বোনের মেয়ে · স্ত্রীর দুধ মা (দুধ শাশুড়ি) · দুধ ছেলের স্ত্রী

বৈবাহিক

শাশুড়ি (স্ত্রীর মা) · স্ত্রীর দাদি ও নানি · পুত্রবধূ (ছেলের বউ) · নাতবউ (নাতির স্ত্রী) · সৎ মা (বাবার স্ত্রী) · সৎ দাদি ও সৎ নানি · সৎ মেয়ে (স্ত্রীর আগের ঘরের মেয়ে)* · স্ত্রীর আগের ঘরের নাতনি*

নারীর মাহরাম

বংশগত

বাবা · দাদা (বাবার বাবা) · নানা (মায়ের বাবা) · ছেলে · নাতি (ছেলের ছেলে) · নাতি (মেয়ের ছেলে) · আপন ভাই · চাচা (বাবার ভাই) · মামা (মায়ের ভাই) · দাদা ও নানার ভাই · দাদি ও নানির ভাই · ভাতিজা (ভাইয়ের ছেলে) · ভাগ্নে (বোনের ছেলে) · ভাতিজা ও ভাগ্নের ছেলে · সৎ ভাই (বাবা এক, মা ভিন্ন) · সৎ ভাই (মা এক, বাবা ভিন্ন)

দুধ সম্পর্কীয়

বংশের কারণে যারা মাহরাম, শিশু বয়সের দুধপানের কারণেও তারা মাহরাম —

দুধ বাবা (দুধ মায়ের স্বামী) · দুধ ভাই · দুধ চাচা (দুধ বাবার ভাই) · দুধ মামা (দুধ মায়ের ভাই) · দুধ নানা ও দুধ দাদা · দুধ ছেলে · দুধ ভাই-বোনের ছেলে · স্বামীর দুধ বাবা (দুধ শ্বশুর) · দুধ মেয়ের জামাই

বৈবাহিক

শ্বশুর (স্বামীর বাবা) · স্বামীর দাদা ও নানা · জামাই (মেয়ের স্বামী) · নাতনির জামাই · সৎ বাবা (মায়ের স্বামী)* · সৎ দাদা ও সৎ নানা* · সৎ ছেলে (স্বামীর আগের ঘরের ছেলে) · স্বামীর আগের ঘরের নাতি

পুরুষের জন্য মাহরাম নন, তবে সাময়িকভাবে বিয়ে নিষিদ্ধ

শ্যালিকা (স্ত্রীর বোন) · স্ত্রীর ফুফু (ফুফু শাশুড়ি) · স্ত্রীর খালা (খালা শাশুড়ি) · স্ত্রীর ভাতিজি · স্ত্রীর ভাগ্নি

নারীর জন্য মাহরাম নন, তবে সাময়িকভাবে বিয়ে নিষিদ্ধ

দুলাভাই (বোনের স্বামী) · ফুফা (ফুফুর স্বামী) · খালু (খালার স্বামী) · ভাতিজির জামাই · ভাগ্নির জামাই

প্রচলিত ভুল ধারণা — এঁরা মাহরাম নন

  • দেবর ও ভাসুর — ভাবী: মাহরাম নন; বরং নবী ﷺ বিশেষভাবে সতর্ক করেছেন: ‘হামউ তো মৃত্যু’।
  • দুলাভাই — শ্যালিকা: মাহরাম নন। বোন/স্ত্রী বিবাহে থাকা পর্যন্ত বিয়ে হারাম — কিন্তু পর্দা পূর্ণ মাত্রায় প্রযোজ্য।
  • চাচাতো, মামাতো, ফুফাতো, খালাতো ভাই-বোন: মাহরাম নন; ‘ভাই-বোন’ ডাকলেও পর্দা প্রযোজ্য, আর বিয়ে বৈধ।
  • খালু ও ফুফা: আপন খালু-ফুফাও মাহরাম নন; খালা বা ফুফু তাঁর বিবাহে থাকা পর্যন্ত বিয়ে হারাম মাত্র।
  • চাচি ও মামী: চাচা-মামা মাহরাম, কিন্তু তাঁদের স্ত্রীরা নন — পর্দা প্রযোজ্য।
  • পালক (দত্তক) সন্তান: দত্তক নেওয়ায় মাহরাম হয় না; শিশু বয়সে দুধ পান করানো হলে দুধ সম্পর্কে মাহরাম হয়।

পর্দার মাসআলা যাচাই

৫টি ছোট প্রশ্ন — উত্তর দিলেই দলিলসহ ব্যাখ্যা দেখাবে।

প্রশ্ন ১ / ৫সঠিক: ০

স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পর শাশুড়ি কি মাহরাম থাকেন?

সব সম্পর্কের বিধান — বিস্তারিত তালিকা

নারীর দৃষ্টিতে · ৫৯টি সম্পর্ক

রক্তের সম্পর্ক (২০)
  • বাবা

    স্থায়ী মাহরাম

    বাবা চিরস্থায়ী মাহরাম; ২৪:৩১ আয়াতে যাদের সামনে নারী সৌন্দর্য প্রকাশ করতে পারেন, তাঁদের মধ্যে বাবার নাম আছে।

    দলিল: সূরা আন-নূর ২৪:৩১; সূরা আন-নিসা ৪:২৩

    দলিলসহ কার্ড দেখুন
  • দাদা (বাবার বাবা)

    স্থায়ী মাহরাম

    বাবার বাবা এবং তাঁর ঊর্ধ্বতন সবাই চিরস্থায়ী মাহরাম — আয়াতের ‘বাবা’ শব্দে দাদা-নানারাও অন্তর্ভুক্ত।

    দলিল: সূরা আন-নূর ২৪:৩১; সূরা আন-নিসা ৪:২৩

    দলিলসহ কার্ড দেখুন
  • নানা (মায়ের বাবা)

    স্থায়ী মাহরাম

    মায়ের বাবা এবং তাঁর ঊর্ধ্বতন সবাই চিরস্থায়ী মাহরাম, দাদার মতোই।

    দলিল: সূরা আন-নূর ২৪:৩১; সূরা আন-নিসা ৪:২৩

    দলিলসহ কার্ড দেখুন
  • ছেলে

    স্থায়ী মাহরাম

    নিজের ছেলে চিরস্থায়ী মাহরাম; তাঁর সামনে নারী ঘরোয়া পোশাকে আসতে পারেন।

    দলিল: সূরা আন-নূর ২৪:৩১; সূরা আন-নিসা ৪:২৩

    দলিলসহ কার্ড দেখুন
  • নাতি (ছেলের ছেলে)

    স্থায়ী মাহরাম

    ছেলের ছেলে এবং তাঁর অধস্তন সবাই চিরস্থায়ী মাহরাম।

    দলিল: সূরা আন-নূর ২৪:৩১; সূরা আন-নিসা ৪:২৩

    দলিলসহ কার্ড দেখুন
  • নাতি (মেয়ের ছেলে)

    স্থায়ী মাহরাম

    মেয়ের ছেলে এবং তাঁর অধস্তন সবাই চিরস্থায়ী মাহরাম।

    দলিল: সূরা আন-নূর ২৪:৩১; সূরা আন-নিসা ৪:২৩

    দলিলসহ কার্ড দেখুন
  • আপন ভাই

    স্থায়ী মাহরাম

    ভাই চিরস্থায়ী মাহরাম; ২৪:৩১ আয়াতে ভাইয়ের নাম আছে।

    দলিল: সূরা আন-নূর ২৪:৩১; সূরা আন-নিসা ৪:২৩

    দলিলসহ কার্ড দেখুন
  • চাচা (বাবার ভাই)

    স্থায়ী মাহরাম

    বাবার ভাই — আপন, বৈমাত্রেয় বা বৈপিত্রেয় — চিরস্থায়ী মাহরাম। ২৪:৩১ আয়াতে চাচার নাম আলাদা করে নেই, কিন্তু ৪:২৩ অনুযায়ী ভাতিজিকে বিয়ে করা তাঁর জন্য চিরকাল হারাম, তাই তিনি মাহরাম — এ বিষয়ে ঐকমত্য।

    দলিল: সূরা আন-নিসা ৪:২৩; সূরা আন-নূর ২৪:৩১

    দলিলসহ কার্ড দেখুন
  • মামা (মায়ের ভাই)

    স্থায়ী মাহরাম

    মায়ের ভাই চিরস্থায়ী মাহরাম — ৪:২৩ অনুযায়ী ভাগ্নিকে বিয়ে করা তাঁর জন্য চিরকাল হারাম।

    দলিল: সূরা আন-নিসা ৪:২৩

    দলিলসহ কার্ড দেখুন
  • দাদা ও নানার ভাই

    স্থায়ী মাহরাম

    দাদা বা নানার ভাই — অর্থাৎ বাবা বা মায়ের চাচা — চিরস্থায়ী মাহরাম; চাচার বিধান ঊর্ধ্বতন প্রজন্মের জন্যও।

    দলিল: সূরা আন-নিসা ৪:২৩

    দলিলসহ কার্ড দেখুন
  • দাদি ও নানির ভাই

    স্থায়ী মাহরাম

    দাদি বা নানির ভাই — অর্থাৎ বাবা বা মায়ের মামা — চিরস্থায়ী মাহরাম, মামার মতোই।

    দলিল: সূরা আন-নিসা ৪:২৩

    দলিলসহ কার্ড দেখুন
  • ভাতিজা (ভাইয়ের ছেলে)

    স্থায়ী মাহরাম

    ভাইয়ের ছেলে চিরস্থায়ী মাহরাম; ২৪:৩১ আয়াতে ‘ভাইয়ের ছেলে’ উল্লেখ আছে।

    দলিল: সূরা আন-নূর ২৪:৩১; সূরা আন-নিসা ৪:২৩

    দলিলসহ কার্ড দেখুন
  • ভাগ্নে (বোনের ছেলে)

    স্থায়ী মাহরাম

    বোনের ছেলে চিরস্থায়ী মাহরাম; ২৪:৩১ আয়াতে ‘বোনের ছেলে’ উল্লেখ আছে।

    দলিল: সূরা আন-নূর ২৪:৩১; সূরা আন-নিসা ৪:২৩

    দলিলসহ কার্ড দেখুন
  • ভাতিজা ও ভাগ্নের ছেলে

    স্থায়ী মাহরাম

    ভাই বা বোনের নাতি এবং তাঁদের অধস্তন সবাই চিরস্থায়ী মাহরাম।

    দলিল: সূরা আন-নিসা ৪:২৩

    দলিলসহ কার্ড দেখুন
  • চাচাতো ভাই

    গায়রে মাহরাম

    চাচাতো ভাই মাহরাম নন — ২৪:৩১ আয়াতের তালিকায় তিনি নেই, আর তাঁর সাথে বিয়ে বৈধ। স্বামীর চাচাতো ভাইকে ইমাম লাইস ‘হামউ’-এর উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন; নিজের কাজিনের ক্ষেত্রেও একই সাধারণ বিধান: পর্দা প্রযোজ্য, হাত মেলানো ও একান্তে থাকা বৈধ নয়।

    দলিল: সূরা আন-নূর ২৪:৩১; সূরা আল-আহযাব ৩৩:৫০; সহীহ বুখারী ৫২৩৩; সহীহ মুসলিম ১৩৪১

    দলিলসহ কার্ড দেখুন
  • ফুফাতো ভাই

    গায়রে মাহরাম

    ফুফুর ছেলে মাহরাম নন; একসাথে বড় হলেও বা ‘ভাই’ ডাকলেও পর্দা প্রযোজ্য, আর বিয়ে বৈধ।

    দলিল: সূরা আন-নূর ২৪:৩১; সূরা আল-আহযাব ৩৩:৫০; সহীহ বুখারী ৫২৩৩; সহীহ মুসলিম ১৩৪১

    দলিলসহ কার্ড দেখুন
  • মামাতো ভাই

    গায়রে মাহরাম

    মামার ছেলে মাহরাম নন; মামা মাহরাম হলেও তাঁর ছেলে নন। পর্দা প্রযোজ্য, আর বিয়ে বৈধ।

    দলিল: সূরা আন-নূর ২৪:৩১; সূরা আল-আহযাব ৩৩:৫০; সহীহ বুখারী ৫২৩৩; সহীহ মুসলিম ১৩৪১

    দলিলসহ কার্ড দেখুন
  • খালাতো ভাই

    গায়রে মাহরাম

    খালার ছেলে মাহরাম নন; পর্দা প্রযোজ্য, হাত মেলানো ও একান্তে থাকা বৈধ নয়, আর বিয়ে বৈধ।

    দলিল: সূরা আন-নূর ২৪:৩১; সূরা আল-আহযাব ৩৩:৫০; সহীহ বুখারী ৫২৩৩; সহীহ মুসলিম ১৩৪১

    দলিলসহ কার্ড দেখুন
  • কাজিনের ছেলে

    গায়রে মাহরাম

    চাচাতো, ফুফাতো, মামাতো বা খালাতো ভাই-বোনের ছেলে মাহরাম নন — ‘ভাতিজা’ বা ‘ভাগ্নে’ ডাকলেও তিনি আপন ভাতিজা-ভাগ্নে নন। পর্দা প্রযোজ্য।

    দলিল: সূরা আন-নূর ২৪:৩১; সূরা আন-নিসা ৪:২৪

    দলিলসহ কার্ড দেখুন
  • বাবা-মায়ের কাজিন ভাই

    গায়রে মাহরাম

    বাবা বা মায়ের চাচাতো, ফুফাতো, মামাতো বা খালাতো ভাইকে অনেকে ‘চাচা’ বা ‘মামা’ ডাকেন, কিন্তু তিনি আপন চাচা-মামা নন — তাই মাহরাম নন। পর্দা প্রযোজ্য।

    দলিল: সূরা আন-নূর ২৪:৩১; সূরা আন-নিসা ৪:২৪

    দলিলসহ কার্ড দেখুন
বৈবাহিক ও শ্বশুরবাড়ি (১৮)
  • শ্বশুর (স্বামীর বাবা)

    স্থায়ী মাহরাম

    শর্ত: শুধু বিয়ের আকদেই — মিলন শর্ত নয়

    স্বামীর বাবা শুধু বিয়ের আকদেই চিরস্থায়ী মাহরাম; ২৪:৩১ আয়াতে ‘স্বামীর বাবা’ উল্লেখ আছে। তালাক বা স্বামীর মৃত্যুর পরও তিনি মাহরাম থাকেন — ছেলের সাবেক স্ত্রীকে বিয়ে করা তাঁর জন্য চিরকাল হারাম।

    দলিল: সূরা আন-নূর ২৪:৩১; সূরা আন-নিসা ৪:২৩

    দলিলসহ কার্ড দেখুন
  • স্বামীর দাদা ও নানা

    স্থায়ী মাহরাম

    শর্ত: শুধু বিয়ের আকদেই

    স্বামীর দাদা ও নানাও শ্বশুরের মতো চিরস্থায়ী মাহরাম — নাতির স্ত্রী তাঁদের জন্য চিরকাল হারাম।

    দলিল: সূরা আন-নূর ২৪:৩১; সূরা আন-নিসা ৪:২৩

    দলিলসহ কার্ড দেখুন
  • জামাই (মেয়ের স্বামী)

    স্থায়ী মাহরাম

    শর্ত: শুধু বিয়ের আকদেই

    মেয়ের স্বামী শুধু বিয়ের আকদেই শাশুড়ির চিরস্থায়ী মাহরাম — দাম্পত্য মিলন হোক বা না হোক, পরে তালাক বা মেয়ের মৃত্যু হলেও।

    দলিল: সূরা আন-নিসা ৪:২৩

    দলিলসহ কার্ড দেখুন
  • নাতনির জামাই

    স্থায়ী মাহরাম

    শর্ত: শুধু বিয়ের আকদেই

    নাতনির স্বামীর জন্য স্ত্রীর দাদি-নানি চিরকাল হারাম, তাই তিনি আপনার চিরস্থায়ী মাহরাম।

    দলিল: সূরা আন-নিসা ৪:২৩

    দলিলসহ কার্ড দেখুন
  • দুলাভাই (বোনের স্বামী)

    মাহরাম নয়, সাময়িকভাবে বিয়ে নিষিদ্ধ

    শর্ত: বোন তাঁর বিবাহে থাকা পর্যন্ত বিয়ে হারাম

    দুলাভাই মাহরাম নন। দুই বোনকে একসাথে বিয়ে করা হারাম বলে আপনার বোন তাঁর বিবাহে থাকা পর্যন্ত তাঁর সাথে আপনার বিয়ে হতে পারে না; বোনের মৃত্যুর পর, অথবা তালাকের পর ইদ্দত শেষ হলে, বিয়ে বৈধ। ২৪:৩১ আয়াতের তালিকায় দুলাভাই নেই — তাই পর্দা, হাত না মেলানো ও একান্তে না থাকার বিধান অন্য গায়রে মাহরামের মতোই, পারিবারিক সম্পর্ক যত ঘনিষ্ঠই হোক।

    দলিল: সূরা আন-নিসা ৪:২৩; সূরা আন-নূর ২৪:৩১; সহীহ বুখারী ৫২৩৩; সহীহ মুসলিম ১৩৪১

    দলিলসহ কার্ড দেখুন
  • ফুফা (ফুফুর স্বামী)

    মাহরাম নয়, সাময়িকভাবে বিয়ে নিষিদ্ধ

    শর্ত: ফুফু তাঁর বিবাহে থাকা পর্যন্ত বিয়ে হারাম

    ফুফা মাহরাম নন। আপনি তাঁর স্ত্রীর ভাতিজি, আর ফুফু-ভাতিজিকে একসাথে স্ত্রী রাখা নিষিদ্ধ — তাই ফুফু তাঁর বিবাহে থাকা পর্যন্ত বিয়ে হারাম, পরে বৈধ। পর্দাসহ বাকি সব বিধান গায়রে মাহরামের মতো।

    দলিল: সহীহ বুখারী ৫১০৯; সহীহ মুসলিম ১৪০৮; সূরা আন-নূর ২৪:৩১

    দলিলসহ কার্ড দেখুন
  • খালু (খালার স্বামী)

    মাহরাম নয়, সাময়িকভাবে বিয়ে নিষিদ্ধ

    শর্ত: খালা তাঁর বিবাহে থাকা পর্যন্ত বিয়ে হারাম

    আপন খালুও মাহরাম নন। আপনি তাঁর স্ত্রীর ভাগ্নি, আর খালা-ভাগ্নিকে একসাথে স্ত্রী রাখা নিষিদ্ধ — তাই খালা তাঁর বিবাহে থাকা পর্যন্ত বিয়ে হারাম, পরে বৈধ। পর্দাসহ বাকি সব বিধান গায়রে মাহরামের মতো।

    দলিল: সহীহ বুখারী ৫১০৯; সহীহ মুসলিম ১৪০৮; সূরা আন-নূর ২৪:৩১

    দলিলসহ কার্ড দেখুন
  • ভাতিজির জামাই

    মাহরাম নয়, সাময়িকভাবে বিয়ে নিষিদ্ধ

    শর্ত: ভাতিজি তাঁর বিবাহে থাকা পর্যন্ত বিয়ে হারাম

    ভাতিজির স্বামী মাহরাম নন। আপনি তাঁর স্ত্রীর ফুফু, আর ফুফু-ভাতিজিকে একসাথে স্ত্রী রাখা নিষিদ্ধ — তাই সাময়িক নিষেধ; পর্দা গায়রে মাহরামের মতো।

    দলিল: সহীহ বুখারী ৫১০৯; সহীহ মুসলিম ১৪০৮

    দলিলসহ কার্ড দেখুন
  • ভাগ্নির জামাই

    মাহরাম নয়, সাময়িকভাবে বিয়ে নিষিদ্ধ

    শর্ত: ভাগ্নি তাঁর বিবাহে থাকা পর্যন্ত বিয়ে হারাম

    ভাগ্নির স্বামী মাহরাম নন। আপনি তাঁর স্ত্রীর খালা, আর খালা-ভাগ্নিকে একসাথে স্ত্রী রাখা নিষিদ্ধ — তাই সাময়িক নিষেধ; পর্দা গায়রে মাহরামের মতো।

    দলিল: সহীহ বুখারী ৫১০৯; সহীহ মুসলিম ১৪০৮

    দলিলসহ কার্ড দেখুন
  • দেবর (স্বামীর ছোট ভাই)

    গায়রে মাহরাম

    দেবর মাহরাম নন। নবী ﷺ স্বামীর আত্মীয়দের (হামউ) বিষয়ে বিশেষভাবে সতর্ক করে বলেছেন, ‘হামউ তো মৃত্যু’ — কারণ ঘরে তাঁদের অবাধ যাতায়াতকে কেউ সন্দেহের চোখে দেখে না। তাই এক বাড়িতে থাকলেও পর্দা ও একান্তে না থাকার বিষয়ে বিশেষ যত্ন দরকার। স্বামীর মৃত্যু বা তালাকের পর ইদ্দত শেষে দেবরকে বিয়ে করা বৈধ।

    দলিল: সহীহ বুখারী ৫২৩২; সহীহ মুসলিম ২১৭২; সূরা আন-নূর ২৪:৩১; সহীহ বুখারী ৫২৩৩; সহীহ মুসলিম ১৩৪১

    দলিলসহ কার্ড দেখুন
  • ভাসুর (স্বামীর বড় ভাই)

    গায়রে মাহরাম

    ভাসুর মাহরাম নন — বয়সে বড় ও সম্মানিত হলেও। ‘হামউ তো মৃত্যু’ হাদিসের সতর্কতা স্বামীর ভাইদের সবার জন্য। পর্দা প্রযোজ্য, হাত মেলানো ও একান্তে থাকা বৈধ নয়।

    দলিল: সহীহ বুখারী ৫২৩২; সহীহ মুসলিম ২১৭২; সূরা আন-নূর ২৪:৩১; সহীহ বুখারী ৫২৩৩; সহীহ মুসলিম ১৩৪১

    দলিলসহ কার্ড দেখুন
  • চাচা শ্বশুর ও মামা শ্বশুর

    গায়রে মাহরাম

    স্বামীর চাচা বা মামা মাহরাম নন; শ্বশুরের বিধান শুধু স্বামীর বাবা-দাদা-নানার জন্য। তাঁরাও স্বামীর আত্মীয় (হামউ), তাই একই সতর্কতা প্রযোজ্য।

    দলিল: সহীহ বুখারী ৫২৩২; সহীহ মুসলিম ২১৭২; সূরা আন-নূর ২৪:৩১

    দলিলসহ কার্ড দেখুন
  • স্বামীর ভাতিজা ও ভাগ্নে

    গায়রে মাহরাম

    স্বামীর ভাতিজা বা ভাগ্নে মাহরাম নন — ২৪:৩১ আয়াতে নিজের ভাই-বোনের ছেলের কথা আছে, স্বামীর ভাই-বোনের ছেলের কথা নেই। বালেগ হলে পর্দা প্রযোজ্য।

    দলিল: সূরা আন-নূর ২৪:৩১; সহীহ বুখারী ৫২৩২; সহীহ মুসলিম ২১৭২

    দলিলসহ কার্ড দেখুন
  • স্বামীর কাজিন

    গায়রে মাহরাম

    স্বামীর চাচাতো বা অন্য কাজিন মাহরাম নন। সহীহ মুসলিমের বর্ণনায় ইমাম লাইস ‘হামউ’-এর ব্যাখ্যায় স্বামীর চাচাতো ভাইয়ের নামই উল্লেখ করেছেন — তাই একই সতর্কতা।

    দলিল: সহীহ বুখারী ৫২৩২; সহীহ মুসলিম ২১৭২; সূরা আন-নূর ২৪:৩১

    দলিলসহ কার্ড দেখুন
  • ননদাই (ননদের স্বামী)

    গায়রে মাহরাম

    স্বামীর বোনের স্বামী মাহরাম নন; শ্বশুরবাড়ির আত্মীয় হলেও পর্দা প্রযোজ্য, বিয়ের কোনো স্থায়ী বাধাও নেই।

    দলিল: সূরা আন-নূর ২৪:৩১; সহীহ বুখারী ৫২৩৩; সহীহ মুসলিম ১৩৪১

    দলিলসহ কার্ড দেখুন
  • ভাবীর ভাই

    গায়রে মাহরাম

    ভাইয়ের স্ত্রীর ভাই মাহরাম নন; বিয়ে বৈধ। পর্দা প্রযোজ্য।

    দলিল: সূরা আন-নূর ২৪:৩১; সূরা আন-নিসা ৪:২৪

    দলিলসহ কার্ড দেখুন
  • বেয়াই (ছেলে বা মেয়ের শ্বশুর)

    গায়রে মাহরাম

    ছেলে বা মেয়ের শ্বশুর — দুই পরিবারের আত্মীয়তা হলেও — মাহরাম নন। পর্দা প্রযোজ্য।

    দলিল: সূরা আন-নূর ২৪:৩১; সূরা আন-নিসা ৪:২৪

    দলিলসহ কার্ড দেখুন
  • স্বামীর সৎ বাবা (শাশুড়ির অন্য স্বামী)

    গায়রে মাহরাম

    শাশুড়ির অন্য স্বামী আপনার স্বামীর বাবা নন, তাই শ্বশুরের বিধানে পড়েন না — মাহরাম নন। পর্দা প্রযোজ্য।

    দলিল: সূরা আন-নূর ২৪:৩১; সূরা আন-নিসা ৪:২৪

    দলিলসহ কার্ড দেখুন
দুধ সম্পর্ক (১১)
  • দুধ বাবা (দুধ মায়ের স্বামী)

    স্থায়ী মাহরাম

    শর্ত: শিশু অবস্থায় (হানাফি মতে দুই বছর বয়সের মধ্যে) দুধ পান করলে

    যে নারী আপনাকে শিশু অবস্থায় দুধ পান করিয়েছেন, তাঁর স্বামী — যার কারণে সেই দুধ এসেছে — আপনার দুধ বাবা, চিরস্থায়ী মাহরাম। আয়েশা (রা.)-এর দুধ চাচাকে নবী ﷺ দেখা করার অনুমতি দিয়েছিলেন; দুধ বাবা তো আরও নিকট।

    দলিল: সহীহ বুখারী ৫১০৩; সহীহ মুসলিম ১৪৪৫; সহীহ বুখারী ২৬৪৫; সহীহ মুসলিম ১৪৪৭

    দলিলসহ কার্ড দেখুন
  • দুধ ভাই

    স্থায়ী মাহরাম

    শর্ত: শিশু অবস্থায় (হানাফি মতে দুই বছর বয়সের মধ্যে) দুধ পান করলে

    দুধ মায়ের ছেলেরা — আগে বা পরে জন্ম নিক — এবং দুধ বাবার অন্য স্ত্রীর ছেলেরা আপনার দুধ ভাই; আবার যে ছেলে আপনার মায়ের দুধ পান করেছে, সে-ও। সবাই চিরস্থায়ী মাহরাম।

    দলিল: সূরা আন-নিসা ৪:২৩; সহীহ বুখারী ২৬৪৫; সহীহ মুসলিম ১৪৪৭

    দলিলসহ কার্ড দেখুন
  • দুধ চাচা (দুধ বাবার ভাই)

    স্থায়ী মাহরাম

    শর্ত: শিশু অবস্থায় (হানাফি মতে দুই বছর বয়সের মধ্যে) দুধ পান করলে

    দুধ বাবার ভাই আপনার দুধ চাচা — চিরস্থায়ী মাহরাম। এ বিষয়ে সরাসরি হাদিস আছে: আয়েশা (রা.)-এর দুধ চাচা আফলাহকে নবী ﷺ দেখা করার অনুমতি দিতে বলেছেন।

    দলিল: সহীহ বুখারী ৫১০৩; সহীহ মুসলিম ১৪৪৫; সহীহ বুখারী ২৬৪৫; সহীহ মুসলিম ১৪৪৭

    দলিলসহ কার্ড দেখুন
  • দুধ মামা (দুধ মায়ের ভাই)

    স্থায়ী মাহরাম

    শর্ত: শিশু অবস্থায় (হানাফি মতে দুই বছর বয়সের মধ্যে) দুধ পান করলে

    দুধ মায়ের ভাই আপনার দুধ মামা — চিরস্থায়ী মাহরাম।

    দলিল: সহীহ বুখারী ২৬৪৫; সহীহ মুসলিম ১৪৪৭

    দলিলসহ কার্ড দেখুন
  • দুধ নানা ও দুধ দাদা

    স্থায়ী মাহরাম

    শর্ত: শিশু অবস্থায় (হানাফি মতে দুই বছর বয়সের মধ্যে) দুধ পান করলে

    দুধ মা বা দুধ বাবার বাবা — এবং তাঁদের ঊর্ধ্বতন — চিরস্থায়ী মাহরাম।

    দলিল: সহীহ বুখারী ২৬৪৫; সহীহ মুসলিম ১৪৪৭

    দলিলসহ কার্ড দেখুন
  • দুধ ছেলে

    স্থায়ী মাহরাম

    শর্ত: শিশু অবস্থায় আপনার দুধ পান করলে

    যে ছেলেকে আপনি শিশু অবস্থায় (দুই বছরের মধ্যে) দুধ পান করিয়েছেন, সে আপনার দুধ ছেলে — চিরস্থায়ী মাহরাম; তার ছেলেরাও।

    দলিল: সূরা আন-নিসা ৪:২৩; সহীহ বুখারী ২৬৪৫; সহীহ মুসলিম ১৪৪৭

    দলিলসহ কার্ড দেখুন
  • দুধ ভাই-বোনের ছেলে

    স্থায়ী মাহরাম

    শর্ত: শিশু অবস্থায় (হানাফি মতে দুই বছর বয়সের মধ্যে) দুধ পান করলে

    দুধ ভাই বা দুধ বোনের ছেলে আপনার দুধ ভাতিজা-ভাগ্নে — চিরস্থায়ী মাহরাম।

    দলিল: সহীহ বুখারী ২৬৪৫; সহীহ মুসলিম ১৪৪৭

    দলিলসহ কার্ড দেখুন
  • স্বামীর দুধ বাবা (দুধ শ্বশুর)

    স্থায়ী মাহরাম

    শর্ত: শুধু বিয়ের আকদেই

    বংশের শ্বশুরের মতো স্বামীর দুধ বাবাও শুধু আকদে চিরস্থায়ী মাহরাম — ‘বংশে যা হারাম, দুধেও তা হারাম’ নীতি অনুযায়ী চার মাযহাবের মত।

    দলিল: সূরা আন-নিসা ৪:২৩; সহীহ বুখারী ২৬৪৫; সহীহ মুসলিম ১৪৪৭

    দলিলসহ কার্ড দেখুন
  • দুধ মেয়ের জামাই

    স্থায়ী মাহরাম

    শর্ত: শুধু বিয়ের আকদেই

    যে মেয়েকে আপনি শিশু অবস্থায় দুধ পান করিয়েছেন, তার স্বামীর জন্য আপনি দুধ শাশুড়ি — তাই তিনি চিরস্থায়ী মাহরাম (চার মাযহাবের মত)।

    দলিল: সূরা আন-নিসা ৪:২৩; সহীহ বুখারী ২৬৪৫; সহীহ মুসলিম ১৪৪৭

    দলিলসহ কার্ড দেখুন
  • ভাইয়ের দুধ ভাই

    গায়রে মাহরাম

    শর্ত: আপনার সাথে তাঁর নিজের দুধ সম্পর্ক না থাকলে

    আপনার ভাই অন্য কোনো নারীর দুধ পান করলে সেই নারীর ছেলে আপনার ভাইয়ের দুধ ভাই — কিন্তু আপনি নিজে সেই দুধ পান না করলে, এবং সে আপনার মায়ের দুধ পান না করলে, সে আপনার মাহরাম নয়। দুধ সম্পর্ক শুধু দুধপানকারী শিশু ও তার সন্তানদের সাথে স্থাপিত হয়।

    দলিল: সহীহ বুখারী ২৬৪৫; সহীহ মুসলিম ১৪৪৭; সূরা আন-নিসা ৪:২৪

    দলিলসহ কার্ড দেখুন
  • যে আপনার মায়ের দুধ খেয়েছে, তার ভাই

    গায়রে মাহরাম

    শর্ত: সে নিজে আপনার মায়ের দুধ পান না করে থাকলে

    কোনো মেয়ে আপনার মায়ের দুধ পান করলে সে আপনার দুধ বোন; কিন্তু তার যে ভাই আপনার মায়ের দুধ পান করেনি, সে আপনার মাহরাম নয় — তার সাথে বিয়েও বৈধ।

    দলিল: সহীহ বুখারী ২৬৪৫; সহীহ মুসলিম ১৪৪৭; সূরা আন-নিসা ৪:২৪

    দলিলসহ কার্ড দেখুন
সৎ ও পালক (১০)
  • সৎ ভাই (বাবা এক, মা ভিন্ন)

    স্থায়ী মাহরাম

    বাবা একই হলে মা ভিন্ন হলেও তিনি রক্তের সম্পর্কের ভাই — আপন ভাইয়ের মতোই চিরস্থায়ী মাহরাম।

    দলিল: সূরা আন-নিসা ৪:২৩; সূরা আন-নূর ২৪:৩১

    দলিলসহ কার্ড দেখুন
  • সৎ ভাই (মা এক, বাবা ভিন্ন)

    স্থায়ী মাহরাম

    মা একই হলে বাবা ভিন্ন হলেও তিনি রক্তের সম্পর্কের ভাই — চিরস্থায়ী মাহরাম।

    দলিল: সূরা আন-নিসা ৪:২৩; সূরা আন-নূর ২৪:৩১

    দলিলসহ কার্ড দেখুন
  • সৎ বাবা (মায়ের স্বামী)

    স্থায়ী মাহরাম

    শর্ত: মায়ের সাথে তাঁর দাম্পত্য মিলন হয়ে থাকলে

    মায়ের পরবর্তী স্বামী আপনার মাহরাম হন কেবল তখন, যখন আপনার মায়ের সাথে তাঁর দাম্পত্য মিলন হয়েছে; তখন তিনি চিরস্থায়ী মাহরাম — পরে তালাক বা মায়ের মৃত্যু হলেও। মিলনের আগেই বিচ্ছেদ হলে তিনি মাহরাম নন।

    দলিল: সূরা আন-নিসা ৪:২৩

    দলিলসহ কার্ড দেখুন
  • সৎ দাদা ও সৎ নানা

    স্থায়ী মাহরাম

    শর্ত: দাদি বা নানির সাথে তাঁর দাম্পত্য মিলন হয়ে থাকলে

    দাদি বা নানির পরবর্তী স্বামী সৎ বাবার মতোই: দাদি-নানির সাথে মিলন হয়ে থাকলে তিনি চিরস্থায়ী মাহরাম, না হলে নন।

    দলিল: সূরা আন-নিসা ৪:২৩

    দলিলসহ কার্ড দেখুন
  • সৎ ছেলে (স্বামীর আগের ঘরের ছেলে)

    স্থায়ী মাহরাম

    শর্ত: শুধু বিয়ের আকদেই

    স্বামীর অন্য স্ত্রীর ঘরের ছেলে শুধু বিয়ের আকদেই আপনার চিরস্থায়ী মাহরাম — বাবার স্ত্রী ছেলের জন্য চিরকাল হারাম (৪:২২), আর ২৪:৩১ আয়াতে ‘স্বামীর ছেলে’ উল্লেখ আছে। তালাক বা স্বামীর মৃত্যুর পরও তিনি মাহরাম থাকেন।

    দলিল: সূরা আন-নূর ২৪:৩১; সূরা আন-নিসা ৪:২২

    দলিলসহ কার্ড দেখুন
  • স্বামীর আগের ঘরের নাতি

    স্থায়ী মাহরাম

    শর্ত: শুধু বিয়ের আকদেই

    স্বামীর ছেলে বা মেয়ের ছেলের জন্য আপনি দাদা-নানার স্ত্রী, যিনি চিরকাল হারাম — তাই তাঁরা চিরস্থায়ী মাহরাম।

    দলিল: সূরা আন-নিসা ৪:২২; সূরা আন-নূর ২৪:৩১

    দলিলসহ কার্ড দেখুন
  • সৎ মা বা সৎ বাবার আগের ঘরের ছেলে

    গায়রে মাহরাম

    মায়ের দ্বিতীয় স্বামীর আগের স্ত্রীর ছেলে, কিংবা বাবার দ্বিতীয় স্ত্রীর আগের স্বামীর ছেলে — যার সাথে আপনার বাবা বা মা কারো রক্তের সম্পর্ক নেই — মাহরাম নন, যদিও এক বাড়িতে বড় হন। পর্দা প্রযোজ্য, আর বিয়ে বৈধ।

    দলিল: সূরা আন-নূর ২৪:৩১; সূরা আন-নিসা ৪:২৪

    দলিলসহ কার্ড দেখুন
  • পালক বাবা

    গায়রে মাহরাম

    শর্ত: দুধ সম্পর্ক না থাকলে

    লালন-পালন বা দত্তক নেওয়ায় কেউ বাবা হন না — কুরআন পালক সন্তানকে জন্মদাতা বাবার পরিচয়ে ডাকতে বলেছে। তাই বড় হওয়ার পর পালক বাবার সাথে পর্দা প্রযোজ্য। তবে শিশু অবস্থায় (দুই বছরের মধ্যে) তাঁর স্ত্রীর দুধ পান করে থাকলে — যে দুধ তাঁর কারণে এসেছে — তিনি দুধ বাবা, অর্থাৎ মাহরাম।

    দলিল: সূরা আল-আহযাব ৩৩:৪–৫; সহীহ বুখারী ৪৭৮২; সহীহ মুসলিম ২৪২৫; সহীহ বুখারী ৫১০৩; সহীহ মুসলিম ১৪৪৫

    দলিলসহ কার্ড দেখুন
  • পালক ছেলে (দত্তক পুত্র)

    গায়রে মাহরাম

    শর্ত: আপনার দুধ পান না করে থাকলে

    দত্তক নেওয়া ছেলে প্রকৃত ছেলের বিধানে পড়ে না, তাই বালেগ হওয়ার পর পালক মায়ের সাথে পর্দা প্রযোজ্য। তবে শিশু অবস্থায় (দুই বছরের মধ্যে) আপনার দুধ পান করে থাকলে সে আপনার দুধ ছেলে — চিরস্থায়ী মাহরাম। এ কারণে অনেক পরিবার দত্তক শিশুকে সময়মতো দুধ পান করানোর ব্যবস্থা করেন।

    দলিল: সূরা আল-আহযাব ৩৩:৪–৫; সূরা আন-নিসা ৪:২৩; সহীহ বুখারী ৪৭৮২; সহীহ মুসলিম ২৪২৫

    দলিলসহ কার্ড দেখুন
  • পালক ভাই

    গায়রে মাহরাম

    পালক বাবা-মায়ের ছেলের সাথে বংশ বা দুধের সম্পর্ক না থাকলে তিনি মাহরাম নন; পর্দা প্রযোজ্য। একই নারীর দুধ পান করে থাকলে তিনি দুধ ভাই — মাহরাম।

    দলিল: সূরা আল-আহযাব ৩৩:৪–৫; সূরা আন-নিসা ৪:২৪

    দলিলসহ কার্ড দেখুন

সাধারণ জিজ্ঞাসা

পুরুষ ও নারীর মাহরাম কারা কারা?

মাহরাম হলেন সেই আত্মীয়, যার সাথে বিয়ে চিরকালের জন্য হারাম। এ সম্পর্ক তিনভাবে হয়। বংশ: পুরুষের জন্য মা, দাদি-নানি, মেয়ে, নাতনি, বোন, ফুফু, খালা, ভাতিজি ও ভাগ্নি; নারীর জন্য বাবা, দাদা-নানা, ছেলে, নাতি, ভাই, চাচা, মামা, ভাতিজা ও ভাগ্নে। বিবাহ: শাশুড়ি ও শ্বশুর, পুত্রবধূ ও জামাই, সৎ মা ও স্বামীর ছেলে (শুধু আকদেই), এবং সৎ মেয়ে ও সৎ বাবা (মায়ের সাথে মিলনের পর)। দুধপান: বংশের কারণে যারা মাহরাম, শিশু বয়সের দুধপানের কারণেও তারা মাহরাম (সূরা আন-নিসা ৪:২২–২৩, সূরা আন-নূর ২৪:৩১, সহীহ বুখারী ২৬৪৫)। প্রচলিত ‘১৪ জন’ জাতীয় সংখ্যা আসলে সরলীকরণ — দুধ সম্পর্ক ধরলে তালিকা আরও বড়।

দুলাভাই ও শ্যালিকার সাথে পর্দার বিধান কী?

দুলাভাই ও শ্যালিকা একে অপরের মাহরাম নন। দুই বোনকে একসাথে বিয়ে করা হারাম (সূরা আন-নিসা ৪:২৩), তাই স্ত্রী বিবাহে থাকা পর্যন্ত শ্যালিকাকে বিয়ে করা যায় না — কিন্তু এই সাময়িক নিষেধ কাউকে মাহরাম বানায় না। সূরা আন-নূর ২৪:৩১-এ যাদের সামনে নারী সৌন্দর্য প্রকাশ করতে পারেন, সেই তালিকায় দুলাভাই নেই; তাই পর্দা, হাত না মেলানো ও একান্তে না থাকার বিধান অন্য গায়রে মাহরামের মতোই।

চাচি বা মামী কি মাহরাম?

না। চাচা ও মামা মাহরাম, কিন্তু তাঁদের স্ত্রীর সাথে বংশ বা দুধের কোনো সম্পর্ক নেই, আর সূরা আন-নিসা ৪:২৩-এর তালিকায় তাঁরা নেই — তাই চাচি ও মামী গায়রে মাহরাম। চাচা বা মামার মৃত্যু বা বিচ্ছেদের পর ইদ্দত শেষে তাঁদের বিয়ে করাও বৈধ। একইভাবে নারীর জন্য আপন খালু ও ফুফাও মাহরাম নন।

তালাকের পর শাশুড়ি কি মাহরাম থাকেন?

হ্যাঁ, চিরকাল মাহরাম থাকেন। সূরা আন-নিসা ৪:২৩-এ ‘তোমাদের স্ত্রীদের মায়েরা’ শর্তহীনভাবে হারাম করা হয়েছে, তাই শুধু বিয়ের আকদেই শাশুড়ি চিরস্থায়ী মাহরাম — দাম্পত্য মিলন না হলেও, আর তালাক বা স্ত্রীর মৃত্যুর পরও। একইভাবে নারীর জন্য শ্বশুর চিরস্থায়ী মাহরাম থাকেন।

দুধ সম্পর্কে কারা মাহরাম হন?

নবী ﷺ বলেছেন, ‘বংশের কারণে যা হারাম, দুধপানের কারণেও তা হারাম’ (সহীহ বুখারী ২৬৪৫, সহীহ মুসলিম ১৪৪৭)। তাই দুধ মা, দুধ বাবা (দুধ মায়ের স্বামী, যার কারণে দুধ এসেছে), দুধ ভাই-বোন, দুধ চাচা, মামা, ফুফু ও খালা, দুধ ভাই-বোনের সন্তান এবং দুধ সন্তান — সবাই মাহরাম। সম্পর্কটি শুধু দুধপানকারী শিশু ও তার সন্তানদের সাথে হয়, তার ভাই-বোন বা বাবা-মায়ের সাথে নয়। হানাফি মাযহাবে শর্ত হলো দুই বছর বয়সের মধ্যে দুধপান, পরিমাণ যত কমই হোক; শাফেয়ি ও হাম্বলি মাযহাবে পাঁচবার আলাদা দুধপান শর্ত (সহীহ মুসলিম ১৪৫২)।

পালক (দত্তক) সন্তান কি মাহরাম?

না, শুধু দত্তক নেওয়া বা লালন-পালনে কেউ মাহরাম হন না। কুরআন বলেছে, আল্লাহ তোমাদের পালক ছেলেদের তোমাদের ছেলে বানাননি — তাদের জন্মদাতা বাবার নামে ডাকো (সূরা আল-আহযাব ৩৩:৪–৫)। তাই পালক সন্তান বড় হলে পালক বাবা-মায়ের সাথে পর্দা প্রযোজ্য। তবে শিশু অবস্থায় (হানাফি মতে দুই বছরের মধ্যে) পালক মা বা পরিবারের কোনো নারীর দুধ পান করলে দুধ সম্পর্কে মাহরাম হয়।

জরুরি কথা

এই পাতাটি একটি শিক্ষামূলক সহায়িকা — হানাফি মাযহাব (বাংলাদেশে অধিকাংশ মুসলমান যে মাযহাব অনুসরণ করেন) অনুযায়ী সাজানো, আর যেখানে অন্য মাযহাবের মত উল্লেখযোগ্যভাবে ভিন্ন, সেখানে তা জানানো হয়েছে। নিজের নির্দিষ্ট পরিস্থিতির জন্য — বিশেষ করে দুধ সম্পর্ক বা একাধিক সূত্রের আত্মীয়তার ক্ষেত্রে — নির্ভরযোগ্য আলেম বা মুফতির পরামর্শ নিন।

হাদিসের নম্বর আন্তর্জাতিক নম্বর অনুযায়ী (সহীহ বুখারী — ফাতহুল বারী, সহীহ মুসলিম — মুহাম্মাদ ফুয়াদ আবদুল বাকী); ইসলামিক ফাউন্ডেশন বা তাওহীদ পাবলিকেশন্সের বাংলা সংস্করণে নম্বর ভিন্ন হতে পারে।

উপযুক্ত জীবনসঙ্গী খুঁজছেন?

পরিবারের মাধ্যমে, নিরাপদে ও সম্মানের সাথে পাত্র-পাত্রী খুঁজুন।

আরও ফ্রি টুলস ও গাইড

বিয়ের প্রস্তুতিতে কাজে লাগবে — সম্পূর্ণ বিনামূল্যে